আমার IELTS অভিজ্ঞতা (ব্যান্ড স্কোর 7.5)

Total ব্যান্ড স্কোর 7.5
————
লিসেনিং: 8.0
রিডিং: 8.5
রাইটিং: 7.0
স্পিকিং: 7.0

অনেকে আমার চেয়ে ভালো স্কোর করেছেন এবং করবেন। তবুও আমি অভিজ্ঞতা লিখতে বসলাম, কারণ টেস্টের রেজিস্ট্রেশন করার সময় যে ঝামেলায় পড়েছিলাম সেটা নিয়ে এবং প্রশ্নের ধরন নিয়ে আলোচনা করতে চাই। আমাকে যে ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে, সেটা জানলে হয়তো সাম্প্রতিককালে কেমন প্রশ্ন আসছে, সে সম্পর্কে একটু ধারণা পাওয়া যাবে। তো… শুরু করছি।

টেস্টের বিস্তারিত

লিসেনিং, রিডিং এবং রাইটিং টেস্টঃ ২ ডিসেম্বর ২০১৭
সময়ঃ দুপুর ১ টা – বিকেল ৪ টা
স্থানঃ বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টার, হল নাম্বার ৫

স্পিকিং টেস্টঃ ৩ ডিসেম্বর ২০১৭
সময়ঃ বিকেল ৪.৪০ (যদিও আমার সময় ছিল বিকেল ৫ টা এবং রিপোর্টিং টাইম ছিল ৪.৩০ । কিন্তু কেন ৪.৪০-এ টেস্ট শুরু হল, সে বিষয়ে পরে আসছি)
স্থানঃ ফিউচারএড সেন্টার, আবেদীন টাওয়ার, বনানী

টেস্ট রেজিস্ট্রেশন করার সময় ঝামেলা

ডিসেম্বরের ২ তারিখে স্লট খালি পেয়ে দ্রুত British Council (BC)-এর ওয়েবসাইটে গিয়ে IELTS-এর রেজিস্ট্রেশন করার জন্য যে অনলাইন ফর্ম আছে সেটা ফিলআপ করে কনফার্মেশন মেইলটা প্রিন্ট করে ১৫৮০০/- নিয়ে চলে গেলাম বনানীতে অবস্থিত ফিউচারএড অফিসে। উল্লেখ্য, আপনি অনলাইন থেকে বা BC অনুমোদিত বিভিন্ন সেন্টারে গিয়েও ফর্ম ফিলাপ করতে পারেন। সেন্টারের নাম-ঠিকানা জানার জন্য BC-র ওয়েবসাইটে ঢুঁ মারুন (https://www.britishcouncil.org.bd/en/exam/ielts/registration)।

ফিউচারএডে শিডিউল কনফার্ম করার জন্য টাকা জমা দিয়ে রিসিট নিয়ে এলাম। উনারা বললেন, দুই-তিনদিনের ভেতর আমি BC থেকে টেস্টের কনফার্মেশন মেইল পাবো। সেই সাথে জানতে পারবো আমার চারটা টেস্টের টাইম টেবিল। কিন্তু মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো যখন দুইদিন পর আমি মেইল পেলাম, “Your application for an IELTS test on the below date has not been processed as the centre has not received all the necessary documentation or because the centre has not received the test fee. Your reservation for this test date has been cancelled.” এ আবার কী? আমি পইপই করে জিজ্ঞেস করেছি ফিউচারএডকে যে, আমার আর কিছু করতে হবে কিনা। উনারা স্পষ্ট করে “না” বলেছিলেন। যা করার উনারাই করবেন। তাহলে? উনারা কি আমার তথ্য বিসিকে সরবরাহ করেননি? ফোন দিলাম ফিউচারএডে। উনারা জানালেন, সার্ভারের সমস্যার কারণে BC এমন মেইল পাঠিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু আমি যেন কোনো টেনশন না নিই। কিছুদিনের মাঝেই আমি কনফার্মেশন মেইল পেয়ে যাবো। ওকে, টেনশন করা ছেড়ে দিলাম।

এই ঘটনার ৭ দিন পর নভেম্বরের ২৩ তারিখে মেইল এলো, “Thank you for submitting your online application form. A place is being held for you at the test location shown below. A test place is only confirmed after the required ID document has been submitted and approved, and your payment has been processed.” মেজাজটা বিগড়ে গেলো। এর মানে এখনো BC আমার পেমেন্ট পায়নি, তাই সিট এখনো কনফার্ম হয়নি। কাহিনী কী? আমার টেস্টের বাকি আছে আর মাত্র ৮ দিন! দিলাম ফোন ফিউচারএডে। উনারা আবার আমাকে আশ্বস্ত করলেন। এই মুহূর্তে নাকি BC-তে প্রচণ্ড চাপ চলছে রেজিস্ট্রেশনের, এজন্য মিসকমুনিকেশন বা মিসম্যানেজমেন্ট হচ্ছে। আমি আশ্বস্ত হলাম। ২৬ তারিখে এলো সেই কাঙ্ক্ষিত মেইল, “Your application for an IELTS test on the below date has been accepted. We have recorded your payment transaction as successful.” যাক, পেমেন্ট তো ক্লিয়ার হয়েছে! এর সাথে লিসেনিং, রিডিং এবং রাইটিং টেস্টের তারিখও কনফার্ম করা হয়েছে। এখন স্পিকিং টেস্ট কবে কনফার্ম হয়, সেটাই দেখার বিষয়।

পরপর চারদিন চলে গেলো, চলে এলো নভেম্বরের ৩০ তারিখ, অথচ এখনো আমি স্পিকিং টেস্টের শিডিউল পাইনি। টেস্ট শুরু হবে আর ২ দিন পর। এক মাথা টেনশন নিয়ে কল করলাম ফিউচারএডে। আমাকে আবারও আশ্বস্ত করা হলো এই বলে, স্পিকিং টেস্ট হবে ২ তারিখের পর। তাই আজকালের মধ্যেই কনফার্মেশন চলে আসবে। চলেও এলো বিকেল ৪ টার দিকে। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। এত ঝামেলা করে আমাকে টেস্ট কনফার্মেশন পেতে হবে, বুঝিনি। হয়তো এই দুই মাসে প্রচণ্ড চাপের কারণে এমনটা হয়েছে, হয়তো সবসময় এমনটা হয় না। যা হোক, আপনারাও প্রস্তুত থাকবেন যেকোনো পরিস্থিতির জন্য।

মূল টেস্ট (লিসেনিং, রিডিং এবং রাইটিং)

যা নেওয়া লাগবেঃ পাসপোর্ট।

শুধু পাসপোর্ট নিলেই চলে কারণ পেন্সিল, রাবার, শার্পনার আর জেল পেন আপনাকে হলের ভেতরে সরবরাহ করা হবে। এরপরও অনেককে দেখলাম নিজের পেন্সিল, রাবার, শার্পনার আর কলম নিয়ে আসতে। সেগুলো নিয়ে ঢুকতেও দিয়েছে বটে। তবে মোবাইল, হাতঘড়ি ইত্যাদি নিয়ে হলে ঢুকা যাবে না। পাসপোর্ট বাদে অতিরিক্ত যা আনবেন, সবই বাইরে জমা দিয়ে টোকেন নিয়ে হলে যেতে হবে।

যা মনে রাখতে হবেঃ ক্যান্ডিডেট নাম্বার (এটা কনফার্মেশন মেইলে লেখা থাকবে, স্রেফ মুখস্ত করে ফেলবেন। এই নাম্বার টেস্টের প্রতিটা স্টেপেই লাগবে)।

আমাদের রিপোর্টিং টাইম ছিল সকাল ১১.৩০ মিনিটে। মূল টেস্ট শুরু হওয়ার কথা দুপুর ১ টা থেকে। নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছানোর পর আমাকে সহ চারজন ক্যান্ডিডেটকে আলাদা করা হল কারণ আমাদের স্পিকিং টেস্ট এখনো হয়নি। বাকিদের হয়ে গেছে বলে হলের ভেতর ঢুকার সময় তাদের ছবি তোলার দরকার পড়ছে না। তাদের শুধু আইডি চেক করে, মেশিনে ইনডেক্স ফিঙ্গার প্রিন্ট মিলিয়ে হলে ঢুকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। সবশেষে আমাদেরকে ডাকা হল। ছবি তুলে, ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে তারপর ঢুকতে দিলো। হলে ঢুকে দেওয়ালে টাঙ্গানো কাগজ থেকে আপনার ক্যান্ডিডেট নাম্বার অনুযায়ী সিট প্ল্যান বের করতে হবে। কিন্তু আমি তো ক্যান্ডিডেট নাম্বার ভুলে গেছি! ইনভিজিলেটরকে বলাতে উনি আমাকে বাইরে গিয়ে ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে নাম্বার জেনে আসতে বললেন। তাই করলাম। এরপর সিট খুঁজে বের করে বসলাম।

সিট বলতে একটা ছোট প্লাস্টিকের টেবিল, যার পায়া উঁচুনিচু বলে নড়াচড়া করছে এবং একটা ফোমের চেয়ার দেওয়া আছে। টেবিলের উপরে ডানদিকে আঠা দিয়ে একটা কাগজ লাগানো আছে যেখানে আমার নাম, ক্যান্ডিডেট নাম্বার, ফার্স্ট ল্যাংগুয়েজ কোড, স্পিকিং টেস্টের ডেট ইত্যাদি লেখা আছে। সাথে আছে একটা ব্লুটুথ হেডফোন, আর আছে একটা প্লাস্টিকের ব্যাগে দুটো 2B পেন্সিল, একটা মুখাওয়ালা শার্পনার (যেন পেন্সিল শার্প করলে ময়লাগুলি মুখাতেই জমা হয়), একটা রাবার আর একটা জেল পেন। লিসেনিং আর রিডিং টেস্টের উত্তর আপনি পেন্সিল দিয়ে লিখতে বাধ্য হলেও রাইটিং টাস্ক ১ আর ২ আপনি কলম বা পেন্সিল – ইচ্ছেমত একটা দিয়ে লিখতে পারবেন। আমার লেখা কলমে দ্রুত হলেও এই টেস্টে পেন্সিলকেই প্রেফার করি, কারণ মুছামুছি করা যায়। কলমে কাটাকাটি হলে দেখতে বাজে লাগে।

লিসেনিং আর রিডিং টেস্টের শুরুতে বলা হয়, স্পষ্ট লেখা আর বানান – এই দুটো জিনিসের উপর গুরুত্ব দিতে। একই কথা রাইটিং শুরুর আগেও বলা হবে।

LISTENING SECTION

যেহেতু সবার প্রথমে লিসেনিং পার্ট, তাই লিসেনিং স্ক্রিপ্টের প্রথম কয়েক লাইন প্লে করে হেডফোন টেস্ট করা হয়। আপনার ইচ্ছানুযায়ী ফোনের ভলিউম কম-বেশি করার অপশন আছে। কারও শুনতে অসুবিধা হলে সাথে সাথে জানাবেন। আমাদের বেলায় মোট তিনবার হেডফোন টেস্ট করা হল। কারও অসুবিধা হচ্ছে না জেনে মূল টেস্ট শুরু হল।

প্রথমে উত্তরপত্রে আমার পুরো নাম ক্যাপিটাল লেটারে লিখতে হল (ঠিক যে নাম এবং বানান পাসপোর্টে আছে, সেটা), ক্যান্ডিডেট নাম্বার এবং টেস্টের তারিখ লিখে নাম্বারগুলির নিচে শেড করতে হল, একাডেমিক নাকি জেনারেল মডিউল সেটা শেড করতে হল। মনে রাখবেন, হেডফোনে নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত প্রশ্নপত্রের পৃষ্ঠা উল্টানো যাবে না। উল্টালে আপনার পরীক্ষা বাতিলও হয়ে যেতে পারে!

* লিসেনিং টেস্টের মোট চারটা সেকশন। প্রথম সেকশনে মুখোমুখি হলাম একজন যাত্রী আর প্লেনের টিকেট বিক্রেতার কথোপকথনের। এই সেকশনটা সবচেয়ে সোজা, তাই সহজেই উৎরে গেলাম। এখানে সব প্রশ্নই এসেছে ফর্ম ফিলাপ লে-আউটে।

* এরপর দ্বিতীয় সেকশন। এখানে এলো একজন ইন্সট্রাক্টরের সাথে একজন ছাত্রীর কথোপকথন। ছাত্রীটা একটা এসাইনমেন্ট করেছে এবং ইন্সট্রাক্টর সেটার সবল আর দুর্বল দিক সম্পর্কে আলোচনা করছেন। এখানে এসেছে বেশ কয়েকটা মাল্টিপল কোশ্চেন, সাথে ছিল “select 3 reasons for what she got less number on her assignment”। এটা বেশ কঠিন ছিলো কারণ শুনতে শুনতে ৭ টা কারণের মধ্যে ৩ টা নির্বাচন করা একটু ঝামেলারই।

* তৃতীয় সেকশনে এলো ম্যাপ। ম্যাপ আমার মোটামুটি সোজাই লাগে। এখানেও মনে হল ভালোভাবে উৎরে গেছি।

* চতুর্থ সেকশন সবচেয়ে বেশি কঠিন হয় এবং এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। একটা লেকচার শোনানো হল বিজ্ঞানের বিভিন্ন সেক্টরে আগামী ৫০ বছরে কীরকম অগ্রগতি হবে, সে বিষয়ে। প্রশ্ন হিসেবে এলো শূন্যস্থান। প্রথমে ছিল কম্পিউটার সায়েন্সের কথা। আমি এখানেই মিস করে গেলাম দুটো প্রশ্ন। মিস করে বেশ নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলাম বটে, কিন্তু দ্রুত সামলে পরের প্রশ্নের দিকে মনোযোগ দিলাম। এরপরের ৮ টা প্রশ্ন ঠিক করেছি বলেই মালুম হল। এরপর আবার তাকালাম প্রথম দুটোর দিকে। মস্তিষ্ক হাতড়ে একটার উত্তর পেলাম, কিন্তু আরেকটা খালিই রেখে দিলাম। আন্দাজে যে কিছু একটা দেবো, সেই স্মৃতিও নেই মাথায়।

READING SECTION

কথিত আছে, প্রথম প্যাসেজ হয় তুলনামূলকভাবে সোজা, দ্বিতীয়টা আরেকটু কঠিন এবং তৃতীয়টা সবচেয়ে কঠিন। আমার মনে হল, তিনটা প্যাসেজই একই রকম স্ট্যান্ডার্ডের। প্রথম প্যাসেজ শুরুর সময় মস্তিষ্ক একটু রিল্যাক্সড থাকে বলে হয়তো সোজা লাগে। যত সামনে এগুবেন, তত সময় কমতে থাকে বলে মস্তিষ্কে চাপ বেশি পড়ে এবং সোজা জিনিসও কঠিন লাগে। কে জানে!

* আমাদের প্রথম প্যাসেজ এসেছিলো ঘোড়ার একটা বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতি নিয়ে, সেটাকে কীভাবে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা হচ্ছে, সেটা নিয়ে। এখানে প্রশ্ন এসেছিলো “TRUE, FALSE, NOT GIVEN”, MCQ, ডায়ালগের সাথে বিজ্ঞানীর নাম ম্যাচ করা ইত্যাদি।

* দ্বিতীয় প্যাসেজ এসেছিলো এন্টার্কটিকা মহাদেশের জলবায়ু নিয়ে, সেটা কীভাবে পৃথিবীর অন্য অংশের জলবায়ুকে প্রভাবিত করছে ইত্যাদি। এখানেও MCQ ছিল। আর ছিল Which paragraph contains which information (কোন বিষয় কোন প্যারাগ্রাফে আলোচনা করা হয়েছে, সেটা বের করতে হবে। এটাকে হেডলাইন ম্যাচিংয়ের সাথে গুলিয়ে ফেলা যাবে না)।

* তৃতীয় প্যাসেজ এসেছিলো ডারউইনিয়ান সাইকোলজি এবং আধুনিক কর্মক্ষেত্রে এর প্রয়োগ নিয়ে। এখানে এসেছিলো YES, NO, NOT GIVEN (আমি প্রথমে খেয়াল না করে TRUE, FALSE লিখে ফেলেছিলাম। পরে দেখি এটা চাচ্ছে YES, NO । এদিকে খুউব খিয়াল কৈরা), এবং PASSAGE SUMMARIZE (মূল লেখা থেকে কয়েকটা প্যারা নিয়ে সেগুলোকে paraphrase করে অনেকগুলো শূন্যস্থানসহ একটা প্যারা বানানো হয়েছিলো, আর নিচে একটা টেবিলের মধ্যে কিছু শব্দ দেওয়া ছিল। শব্দগুলো থেকে সঠিক শব্দ নির্বাচন করে শূন্যস্থান পূরণ করতে হবে)।

WRITING SECTION

রাইটিং সেকশন নিয়ে আমি সবচেয়ে বেশি ভয়ে ছিলাম। কারণ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যক শব্দ লিখতে পারবো কিনা, চিন্তা হচ্ছিলো। অথচ আমি এই সেকশনেই সবচেয়ে ভালো করলাম। এখানে আপনাকে অতিরিক্ত কোন রাফ পেপার দেওয়া হবে না। প্রশ্নপত্রেই আঁকিবুঁকি যা করার, করতে হবে। প্রথমেই দুটো টাস্কের জন্য দুটো উত্তরপত্র দেওয়া হবে, কিন্তু নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত প্রশ্ন দেখা যাবে না। দরকার পড়লে আপনি টাস্ক ২-এর জন্য লুজ শিট নিতে পারবেন।

আমাদের টাস্ক ১-এ এসেছিলো কলাম গ্রাফ, যেখানে যুক্তরাজ্যের মহিলা এবং পুরুষের বিভিন্ন Age group কর্তৃক ২০০৬ সালে ফল এবং শাকসবজি খাওয়ার শতকরা হার দেখানো হয়েছে। এত সরল গ্রাফ আসবে, কল্পনাই করিনি। দুনিয়ার কাপঝাপ মার্কা ফিগার দিয়ে প্র্যাকটিস করেছি বাসায়। এখন এই গ্রাফ পেয়ে খুশিতে আত্মারাম খাঁচাছাড়া হওয়ার যোগাড়। কোনোমতে খুশি সামলে মেইন ফিচার, মিনিমাম-ম্যাক্সিমাম-স্টেবল সিচুয়েশন পয়েন্ট আউট করে লিখে ফেললাম প্রশ্নপত্রে। এরপর মাথায় রচনার লেআউট সাজিয়ে ধুমিয়ে লিখতে আরম্ভ করলাম। Increase, decrease ইত্যাদি কমন শব্দ ব্যবহার না করে একটু আনকমন ভোকাবুলারি ব্যবহার করলে, ডাবলড/ট্রিপলড ইত্যাদি সম্পর্ক দেখালে, শতকরা (২৫%, ১৬% ইত্যাদি) উল্লেখ করলে টাস্ক ১-এ ভালো মার্ক পাওয়া যায়। তবে অবশ্যই ১৫০ শব্দ লিখতে হবে। এর নিচে হলে লেখা যতই স্ট্যান্ডার্ড হোক না কেন, আপনি মার্ক কম পাবেন।

টাস্ক ২-তেও পেলাম সোজা একটা টপিক যেটা ছিল এরকম – In the past, we used books to store knowledge. But now we store our knowledge on the internet. Does the advantages outweigh the disadvantages of this development? ইচ্ছেমত লিখলাম। অতিরিক্ত শিটও চেয়ে নিলাম। আমার ধারণা, আমি ৫০০ শব্দ লিখেছি। হেহে।

SPEAKING SECTION

যা নেওয়া লাগবেঃ পাসপোর্ট
যা মনে রাখতে হবেঃ ক্যান্ডিডেট নাম্বার
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পার্ট ২-তে টপিক নির্বাচনের ক্ষেত্রে আগে লটারি সিস্টেম থাকলেও এখন উঠে গেছে। এখন নির্দিষ্ট একটা টপিক দেওয়া থাকবে প্রশ্নপত্রে, যেটার উপরে আপনাকে বলতে হবে।

আমার রিপোর্টিং টাইম ছিল ৪.৩০ মিনিটে, আর আমি ঠিক ঐ সময়েই সেন্টারে ঢুকলাম। রিসেপশন ডেস্কে বসা একজন আমাকে বললেন হাতে শুধু পাসপোর্ট রেখে হাতঘড়ি, ব্যাগ সবকিছু একটা শেলফে রাখতে। তারপর আমার ক্যান্ডিডেট নাম্বার মিলালেন। এরপর আরেকটা রুমে আমাকে ঢুকতে বলা হল। সেখানে একজন আমাকে টুলে বসিয়ে ফিঙ্গার মেশিনে ইনডেক্স ফিঙ্গার চাপতে বললেন। আমার পূর্ণ নাম মিলিয়ে দেখলেন এবং বললেন রিসেপশনে গিয়ে বসতে। রিসেপশনে ফিরে আসতেই আমাকে একটা দরজা দেখিয়ে সেটা দিয়ে ভিতরে ঢুকতে বলা হল। ঐখানকার তিন নম্বর রুমে আমার টেস্ট হবে।

ঢুকলাম দরজা দিয়ে। দেখি পরপর তিনটা রুম আছে, তিনটারই দরজা বন্ধ। এই রুমগুলোতেই স্পিকিং টেস্ট হচ্ছে। ছোট্ট করিডোরে ৬ টা সিট রাখা, যেখানে বসে আছেন ৩ জন যুবক। সবাই অপেক্ষা করছেন নিজেদের পালা আসার জন্য। ঘড়িতে তখন ৪.৩৮ মিনিট। আমি পেট খালি করার জন্য টয়লেটে ঢুকলাম। বেরিয়ে এসে যেই না চেয়ারে বসলাম, ওমনি এক লোক এসে বলল, “ম্যাডাম, প্লিজ চলে আসুন রুম নাম্বার থ্রিতে।” আমি তো অবাকই, আগে থেকে অপেক্ষমান তিন তরুণও বিস্মিত! সবার পরে এলাম আমি, আর আমারই পালা কিনা সবার আগে।

একটু স্থির হয়ে বসে মনকে প্রস্তুত করারও সময় পেলাম না, তার আগেই দুরুদুরু বুকে প্রবেশ করতে হল রুমে। ঘড়িতে তখন বাজে ৪.৪০। অর্থাৎ রিপোর্টিং টাইম অনুযায়ীই আপনাকে সেন্টারে থাকতে হবে। “টেস্ট শুরু ৫ টায়, তাই ৪.৩০ থেকে ৫ টার ভেতর যেকোনো একসময় গেলেই চলবে” ভাবলে আর হচ্ছে না। রিপোর্টিং টাইম থেকে টেস্ট শুরুর টাইমের মধ্যে যে বিরতি, তার ভেতরেও আপনাকে ডেকে নেওয়া হতে পারে।

যা হোক, দরজা খুলে দেখি একজন ম্যাডাম বসে আছেন। জিজ্ঞেস করলাম, “May I come in?” উনি হাসি মুখে বললেন, “ইয়েস প্লিজ, হ্যাভ এ সিট।” এরপর চটপট উনার হাতের কিছু কাজ শেষ করে জানালেন উনি এখন টেস্ট শুরু করতে যাচ্ছেন, আমি প্রস্তুত কিনা। সম্মতি জানালাম। সাথে সাথে টেপ রেকর্ডার চালু করে উনি বিদ্যুৎ বেগে বলে গেলেন উনার পরিচিতি, আমার পরিচিতি, টেস্টের টাইম টেবিলসহ আরও অনেক কিছু, যা আমার মাথার উপর দিয়ে গেলো। উনার কথার গতি দেখে আমি তো থ! এভাবে প্রশ্ন করলে কিছুই বুঝতে পারবো না, প্রতিটা প্রশ্নের পর “এক্সকিউজ মি, ক্যান ইউ প্লিজ রিপিট দা কোয়েশ্চেন? / সরি, অ্যাই কুডন্ট গেট ইউ!” আওড়াতে হবে। তারপরও নার্ভাস না হয়ে কনফিডেন্ট থাকার চেষ্টা করলাম। কারণ আত্মবিশ্বাস না থাকলে ভালো ইংরেজি জানা মানুষও আমতা আমতা করবে।

একজামিনার প্রথম ধাক্কায় একের পর এক প্রশ্ন করতে লাগলেন – কোথায় থাকি, বর্তমানে কী করছি (চাকরি নাকি পড়াশোনা), যে কোম্পানিতে জব করি তারা কী ধরনের কাজ করে, এখানে কাজ করে কোন ব্যাপারটা আমি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করছি, আমি কি এই ক্যারিয়ারেই থাকতে চাই কিনা ইত্যাদি। এসব প্রশ্ন করে তিনি আইস ব্রেক করলেন। এরপর একটা কঠিন প্রসঙ্গে আসলেন – “Politeness”। ভিতরে আমি ঘেমে একাকার। এটা একটা কথা চালানোর মত সাবজেক্ট হল? ম্যাডাম জানতে চাইলেন, আমাদের সমাজে পোলাইটনেস কীভাবে প্রদর্শন করা হয়? কখন করা হয়? এখনকার প্রজন্মের পোলাইটনেস দেখানোর প্রবণতা কেমন ইত্যাদি। আর টাডা! আমি কোত্থেকে যেন উড়াধুরা হয়ে গেলাম। ফটফটিয়ে উত্তর দিতে লাগলাম। উনি যত দ্রুত বলেন, আমিও তার কাছাকাছি দ্রুততায় উত্তর দিই।

এরপর এলো বিখ্যাত পার্ট ২ যেখানে আমাকে ২ মিনিটের মত বক্তৃতা দিতে হবে। ম্যাডাম আমাকে একটা পেন্সিল, এক টুকরো কাগজ আর প্রশ্নপত্র এগিয়ে দিলেন। বললেন, নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য আমি সময় পাবো ১ মিনিট। তো উনি যখন ইন্সট্রাকশন দিচ্ছেন, আমি তখনই প্রশ্ন পড়ে চিন্তা করা শুরু করে দিয়েছি টপিক নিয়ে। তাই উনি যখন ঘড়ি চালু করলেন, আমি ততক্ষণে বেশ এগিয়ে গেছি। টপিক ছিল, “A city you visited. Describe where the city is, when did you visit, how was the city…”। আমি কিছু পয়েন্ট কাগজে টুকতে টুকতেই শুনি সময় শেষ। ম্যাডাম বললেন, “You can start now. Don’t worry if I stop you after 2 minutes.” বেশ, আমিও বকবক শুরু করলাম। প্রথমদিকে ভালোই বললাম, কিন্তু কিছুতেই যেন দুই মিনিট পার হচ্ছে না…। একসময় কথা গেলো ফুরিয়ে। কিন্তু ম্যাডাম ইঙ্গিতে বললেন কথা চালিয়ে যেতে। এই প্রথম আমতা আমতা করলাম আমি। তারপর তিন কি চার লাইন বলেছি, আর উনি থামিয়ে দিলেন। যা হোক, একটু নার্ভাস হয়ে গেলাম নাম্বার কাটবে কিনা সেটা চিন্তা করে।

পার্ট ৩-তে ম্যাডাম সিটি লাইফ নিয়ে কথা বলতে শুরু করলেন। কেন ইদানিং এত বেশি মানুষ সিটির দিকে আসছে? সিটির কোন কোন বিষয় আমার বিরক্ত লাগে? কোন কোন সুবিধা থাকলে একটা সিটিকে বাসযোগ্য বলা যায়? ইত্যাদি। মোটামুটি সব প্রশ্নেরই ফ্লুয়েন্ট রিপ্লাই দিতে পেরেছিলাম। পেরে আত্মবিশ্বাস চরমে উঠেছিলো। আরও প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার জন্য নিজেকে শান দিচ্ছিলাম, কিন্তু বিধিবাম! ম্যাডাম বললেন, টেস্ট নাকি শেষ।

খুশি মনে বের হয়ে এলাম। মাত্র ১০ মিনিটে খেল খতম। কিন্তু বের হওয়ার পর রাজ্যের চিন্তা মাথায় জড়ো হল। মাত্র ১০ মিনিটে টেস্ট শেষের মানে কী? আমি ভালো বলতে পারছিলাম না বলে দ্রুত বিদেয় করে দিলো? কিন্তু নাহ, রেজাল্ট হাতে পেয়ে দেখি কাঙ্ক্ষিত ব্যান্ড স্কোরই পেয়েছি।

রেজাল্ট সংগ্রহ

লিসেনিং, রিডিং, রাইটিং টেস্টের ১৩ দিন পর, দুপুর ১২ টায় অনলাইন থেকে আনঅফিসিয়াল রেজাল্ট জানতে পারবেন। এর জন্য লগিন করুন “Test Taker Area”-তে। যেসব তথ্য দেওয়ার পর Find বাটনে ক্লিক করলে রেজাল্ট চলে আসবে, সেগুলো হল – Test Date, Date of Birth, Identification Document Number (পাসপোর্ট নাম্বার), Candidate Number । এছাড়া আপনার রেজাল্টের একমাত্র হার্ড কপিটি পাওয়ার জন্য যেতে হবে ফুলার রোডে অবস্থিত ব্রিটিশ কাউন্সিলের মেইন অফিসে। এই কপি হারালে পুনরায় উঠানোর উপায় নেই।

রেজাল্ট পাঠানো

* ভার্সিটিতে পাঠানোর জন্য টেস্ট রেজিস্ট্রেশনের সময়েই ৫ টা ভার্সিটি সিলেক্ট করে রাখা যায়। এসব ভার্সিটিতে টেস্ট ডেট থেকে পরবর্তী ৪২ দিনের ভেতর ডাক বিভাগের মাধ্যমে ফ্রিতে টেস্ট রিপোর্ট পাঠানো হবে। আর ৪২ দিনের পর থেকে রিপোর্ট প্রতি গুনবেন ১৫০০/- ।

* যদি ইন্টারন্যাশনাল কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠাতে চান, তাহলে টেস্ট ডেট থেকে পরবর্তী ৪২ দিনের ভেতর ২৫০০/- গুনতে হবে প্রতিটা রিপোর্টের জন্য। আর ৪২ দিনের পর থেকে গুনবেন ৩৫০০/-।

* আবার কিছু ভার্সিটি অরিজিনাল রিপোর্টের পরিবর্তে ইলেক্ট্রনিক রিপোর্টও একসেপ্ট করে। সেক্ষেত্রে আপনি ফ্রিতে ই-রিপোর্ট পাঠাতে পারবেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের মেইন অফিস থেকে। তবে কোন কোন ভার্সিটি ই-রিপোর্ট একসেপ্ট করে, এটা জানার জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের সাথে যোগাযোগ করুন।

এত বড় পোস্ট পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ এবং সকল পরীক্ষার্থীর জন্য শুভ কামনা।

[বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি আমার হাজবেন্ড Rezwanur Rahman Prince-এর প্রতি। তার প্রত্যক্ষ সহায়তায় পূর্বের ৬.৫ স্কোর থেকে বর্তমানের ৭.৫ স্কোর তোলা সম্ভব হয়েছে]

মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।