All About F2 Visa

রম্য প্রবন্ধটি যৌথভাবে লিখেছেন –
সাইফুল ইসলাম এবং ফরহাদ হোসেন মাসুম

আপনার ফান্ডিং হয়ে গেছে আম্রিকাতে পড়াশোনা করার জন্য। এখন দিল্লী কা লাড্ডুর টেস্ট যদি আপনার জানা থাকে (যদি বিবাহিত হয়ে থাকেন), তাহলে Admission এর পর আপনার কাবিননামার পার্টনারের জন্যেও ভিসা প্রসেসিং করতে পারেন। ঐ পার্টনারের সাথে যৌথ উদ্যোগে লিটল পার্টনার পয়দা করলে ওদেরকে নিয়েও সওয়ার হতে পারেন ৯০০০ মাইল দূরের উড়োজাহাজে।

আপনার নিজের ভিসার নাম হচ্ছে F1 visa. সেটার প্রসেসিং এর বৃত্তান্ত দেখুন এখানে, Student Visa Processing. আর আপনার হাতে হাত রেখে যারা যাবে, তাদের ভিসার নাম হচ্ছে F2 Visa, এটাকে অনেক সময় spouse visa-ও বলা হয়ে থাকে। প্রশ্ন হচ্ছে, Spouse (Wife/Husband) এর জন্য ভিসা প্রসেসিং কিভাবে করবেন?

প্রথম ধাপ – I20 সন্ধান

প্রথম কথা হল আপনার দুইটা I-20 লাগবে।

আপনার F1 visa এর জন্য International Office অথবা Admission Coordinator একটা I-20 ইস্যু করবে। তখনি ওদেরকে বলুন, “আমি ভাই বিয়াশাদীওয়ালা মানুষ, জামাই/বৌ ছাড়া ক্যামনে থাকি? দোহাই লাগে, তাহার লাগি দয়া করিয়া একখানা F2 Visa ইস্যু করিয়া দিন” 

আপনি যদি দেশ থেকে প্রসেসিং শুরু করেন, তাহলে Marriage Certificate (English Version) টা Scan করে পাঠিয়ে দিন।Marriage Certificate (English Version) টা বাংলাদেশের যেকোনো সরকারি উকিল দ্বারা সত্যায়িত বা Notarized হতে হবে।

আর আপনি যদি আমেরিকা আসার পর পার্টনারের জন্য F2 ভিসা প্রসেসিং করতে চান, তাহলে Marriage Certificate সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে। International Office এ Marriage Certificate এবং আপনার Spouse এর পাসপোর্ট দেখালে ওরা F2 এর জন্য I-20 Issue করে দেবে। সেক্ষেত্রে আপনার F1 I-20 তে কিছু পরিবর্তন হবে এবং নতুন F1 I-20 Issue করবে। আপনার Spouse এর F2 I-20 তে আপনার আয় এবং Spouse সহ থাকতে যে খরচ হবে, তার একটা হিসাব থাকবে।

দ্বিতীয় ধাপ – I20 আহরণ

আপনি নিজে এখনো যাননি আমেরিকায়, তাহলে তো ওরা আপনাদের দুজনের জন্যেই I-20 পাঠাবে। আর যদি আপনি আমেরিকাতে চলে এসে থাকেন, তাহলে F2 I20 আপনার পার্টনার কে পাঠানোর জন্য নির্ভরযোগ্য কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করুন।

তৃতীয় ধাপ – এম্ব্যাসী জয়

VISA Application Fee: SEVIS Fee লাগবে না। বাকি সব প্রসেসিং F1 ভিসা এর মতো। শুধু সঙ্গীর ডিটেইলসগুলো ফিলাপ করে দিন। সঙ্গীকে যুক্ত করার পর শুধু একটাই পরিবর্তন হবে, ভিসা ফি দুজনের জন্য দ্বিগুণ দেখাবে। মানে, আপনার জন্য ১২৬০০, স্ত্রীসহ ২৫২০০ -এমন। অ্যাপলিকেশন ফর্ম পূরণ এর সময় যে ফটো দিবেন সেটার Format দেখুন এখানে, Photo requirement

 

VISA Interview:

 এম্ব্যাসীতে ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় এই কাগজপত্রগুলো নিয়ে যেতে হবে –

  1. Passport
  2. F2 I20
  3. Marriage Certificate
  4. Birth Certificate
  5. All Marriage documents including wedding Photos
  6. videos in flash drive
  7. Bank Statement
  8. Educational certificates

ওরা ফটো দেখতে চাই, সুতরাং ফটো সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। প্রয়োজনে ফ্ল্যাশ ড্রাইভ এ ভিডিও নিতে পারেন। ফ্ল্যাশ ড্রাইভ নিয়ে Embassy তে ঢুকতে না দিলে কারো কাছে রেখে যাবেন। ফটোতে আপনার পরিবারের বাবা, মা সহ থাকলে ভাল হয়। ফটোতে শুধু বর-কনে থাকলে ওরা ভুয়া ভাবতে পারে।  

কিছু কমন প্রশ্নঃ

আপনি কেন আমেরিকা যেতে চান?
ওরা জানে যে অর্ধাঙ্গ আমেরিকা আছে তারপরও এই প্রশ্ন করে। মেয়ে হইলে গাইতে পারেন, “আমার ঘুম আসে না রে, একা ঘরে শুইতে। যাইতাসি দেখিতে আমার শ্যাম গোকুলে”…… পোলা হইলে গাইতে পারেন, “আমার বৌ বলেছে যেতে আমায়, ওকে ছাড়া আমি থাকবো না থাকবো না; রেললাইনে বডি দেবো, মাথা দেবো না”…… সত্যি সত্যি গলা ছেড়ে গান ধইরেন না। এই লাইনগুলোই বলতে হবে আর কি, সুন্দর করে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে।

আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
ভুলেও বলবেন না যে, ভবিষ্যৎ এ পড়ালেখা করার ইচ্ছা আছে। বলতে পারেন, “আমি যাইতেসি, আমার জানের জান পরাণের পরাণকে সঙ্গ দিতে। He/She misses me, you know.”

আরও বিস্তারিত জানার জন্য –
http://dhaka.usembassy.gov/dependent.html

চতুর্থ ধাপ – ভিসা প্রসেসিং

আপনার সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে তিন দিনের মধ্যে ভিসা পেতে পারেন। অথবা আপনাকে Online VISA Status দেখতে বলবে, তবে ভিসা refuse হওয়ার সম্ভাবনা কম। F2 visa refuse হয়ই না বলতে গেলে।

মন্তব্য

3 comments

  • tanim

    ওরে কেউ আমারে ধর……
    ঘুম আসেনা মোর
    শ্যামকালা মুই বিদেশ ঘুড়ি
    ওগো লাইলি তুই আইনা উড়ি… :'(

  • akash

    স্পাউস ভিসার ক্ষেত্রে খরচ কেমন হয়?ব্যাংক স্টেইটমেন্ট ই বা কতো লাগে?ব্যাংক একাউন্টটা কি আত্নিয় কারো হলে কোন সমস্যা আছে এমনকি উনি যদি আমেরিকার নাগরিক না হোন?

    • ফরহাদ হোসেন মাসুম

      ১) এপ্লাইয়ের সময় এম্ব্যাসি ফি, এপ্লিকেশন ফি যা তাই দেয়া লাগে, এক্সট্রা কোনো খরচ নাই। হয়তো i-20 আনাতে খরচ লাগতে পারে।
      ২) ভার্সিটি থেকে বলে দেয়।
      ৩) আত্মীয়র হলে কোনো সমস্যা নাই, আমেরিকার নাগরিক হতে হয় না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।